খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১ ভাদ্র, ১৪৩৩

অস্ত্র–গুলির সঙ্গে পাওয়া গেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক সাত ডাকাতের সঙ্গে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি গুলি, ওয়াকিটকি, পুলিশের লোগোযুক্ত হাতকড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পোশাক, গাড়ির ভুয়া নম্বর প্লেটসহ ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়িও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. তৈয়ব আলী সর্দার (৪৫), পাভেল সর্দার (৩৩), সাইফুর রহমান (৪৫), রাব্বি আলম (২৪), ইমরান হোসেন ভূঁইয়া (২৮), নুরুল ইসলাম (৩৩) ও মো. ইসমাইল (২৮)।

পাভেল সর্দার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চাকরিচ্যুত পেটি অফিসার এবং রাব্বি আলম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সৈনিক। আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে তিনটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কামরাঙ্গীরচর থানার বেড়িবাঁধসংলগ্ন দূরানী ব্রিজের দক্ষিণ পাশে ফাঁকা জায়গায় ছয়-সাতজনের একটি ডাকাত দল ডাকাতির পরিকল্পনা করতে সমবেত হয়েছে। তারা বিভিন্ন বাহিনীর নাম ও পদবি ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক, ওয়াকিটকি এবং দেশি-বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করে দস্যুতা ও ডাকাতি করে আসছিল।

ওই তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনারের (লালবাগ) নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তৈয়ব আলী সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যান। তাঁর কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়।

তৈয়বকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন উত্তরখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাভেল সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি কিরিচ, দুটি মুঠোফোন, র‍্যাবের লোগোযুক্ত একটি পরিচয়পত্র রাখার খাপ, সেনাবাহিনীর দুটি ফিল্ড ক্যাপ ও একটি কালো লেজার লাইট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, তৈয়ব ও পাভেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর এলাকা থেকে সাইফুর রহমান, রাব্বি আলম, ইমরান হোসেন, নুরুল ইসলাম ও মো. ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর থানার সেন্টার পয়েন্ট শপিংমলের পার্কিং এলাকা থেকে একটি কালো ওয়াকিটকি সেট, বাংলাদেশ পুলিশের লোগোযুক্ত একটি হাতকড়া, গাড়ির দুটি ভুয়া নম্বর প্লেট, র‍্যাব লেখা তিনটি পোশাক, ডিবি লেখা একটি পোশাক, দুটি প্রতিফলক পোশাক, কালো রঙের পাঁচটি প্রতিফলক স্টিকার, হলুদ রঙের পাঁচটি প্রতিফলক স্টিকার, একটি কালো পিস্তলের খাপ, একটি খেলনা পিস্তল ও তিনটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাঁরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি ও দস্যুতা করতেন। পরে ইমরান হোসেনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো জায়গা অনুযায়ী গতকাল শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার রূপসী গ্রামে তাঁর বোনের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও ছয়টি গুলি উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া তৈয়ব আলী সর্দারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সকাল আটটার দিকে ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁর মালিকানাধীন ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়ি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, উদ্ধার করা পিস্তলটি তৈয়ব আলী সর্দার পাঁচ-ছয় দিন আগে ইমরানের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। তৈয়ব আলী সর্দারের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ ৪৫টি মামলা এবং পাঁচটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, গত মে মাসে যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই ঘটনায় তৈয়ব ও পাভেলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া গত ১৩ জুলাই খিলক্ষেত থানার কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে ডাকাতির ঘটনায় তৈয়বের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সম্প্রতি একাধিক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে একটি মামলা এবং রূপগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে। পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সুত্র : প্রথম আলো

তানজিলা রহমান । বার্তা বিভাগ । যোগফল অনলাইন 

ইজারা ব্যবস্থা নিয়ে সিলেটে বাংলাদেশ লেখক শিবিরের ১০ দফা দাবি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইজারা ব্যবস্থা নিয়ে সিলেটে বাংলাদেশ লেখক শিবিরের ১০ দফা দাবি

ইজারা ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট, বিদ্যমান আইন ও বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা সভা করেছে বাংলাদেশ লেখক শিবির, সিলেট জেলা শাখা। সভা থেকে বালু, মাটি, পাথর ও পানিসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সিলেট প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি খালেদ উদ দীন এতে সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ ‘ইজারা ব্যবস্থা—প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সিলেট জেলা শাখার সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম মকবুল, বাংলাদেশ লেখক শিবিরের প্রবীণ রাজনীতিক সদস্য নুরুল হুদা সালেহ, সংগঠনের সিলেট জেলা শাখার সাবেক সহসভাপতি আকলিছ আহমেদ চৌধুরী, কৃষক-মজুর-মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মো. সাহেব আলী, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও সদস্য জুনেদ আহমেদ।

এ ছাড়া গোয়াইনঘাটের দক্ষিণ প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা শাওন দেবনাথ, বাংলাদেশ লেখক শিবির সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কবি মজনু মুহিবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক বদরুল ইসলাম মহসিন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার সদস্য শিরিন মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ জামিল, সিনিয়র সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী মো. মুহিবুর রহমান এবং অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক শামসুল কিবরিয়াও বক্তব্য দেন।

প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় ইজারা ব্যবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বিদ্যমান আইন ও আইনের বাস্তব প্রয়োগের নানা দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ইজারা ব্যবস্থার কারণে অর্থনীতি ও পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

গোয়াইনঘাটের দক্ষিণ প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা শাওন দেবনাথ বলেন, বালু উত্তোলনের কারণে দক্ষিণ প্রতাপপুর গ্রামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে শান্তিগঞ্জের কৃষক-মজুর-মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মো. সাহেব আলী উথাইরা গাং এলাকায় পরিবেশ বিপন্ন করে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তুলে ধরেন।

সংগঠনের আরেক সমন্বয়ক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জনগণের সম্পদ বালু, মাটি, পাথর ও জলাশয়ের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাধারণ মানুষকে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান।

নুরুল ইসলাম মকবুল ইজারা ব্যবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে জনগণের আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয় তুলে ধরেন। সাংবাদিক বদরুল ইসলাম মহসিন নদী-খাল দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের বিষয়টি তুলে ধরেন। দোয়ারাবাজারের শ্রমিক নেতা আব্দুর রাজ্জাক স্থানীয়ভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের সঙ্গে ভূমিদস্যুতার অভিযোগের বিষয়ও আলোচনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে খালেদ উদ দীন বালু, মাটি, পাথর, পানি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ বাতিল; বালু, মাটি, পাথর ও পানি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় অধিবাসীদের সম্পৃক্ত করে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন; প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যক্তি খাতে ইজারা না দেওয়া; অভিযুক্ত ইজারাদারদের ব্যাংক হিসাব জব্দের ব্যবস্থা; হাইড্রোগ্রাফিক, ব্যাথিমেট্রিক ও নদীর গঠনগত সমীক্ষার ভিত্তিতে বালুমহাল ও জলমহালের সীমানা নির্ধারণ; বালু, মাটি, পাথর ও পানি উত্তোলন ও বিক্রয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া; এবং নদীর ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য, মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

সভা শেষে এসব দাবি বাস্তবায়নে সংগঠিতভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে এআই ক্যামেরা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে এআই ক্যামেরা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চালু হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’।

আগামী ১৮ আগস্ট থেকে কুমিল্লার ১০৫ কিলোমিটার মহাসড়কজুড়ে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের চলাচল সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করবে হাইওয়ে পুলিশ।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি স্থানে মোট ১৯৯টি এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের গতি ও চলাচল সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হবে।

অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালানোসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। আইন ভঙ্গের তথ্য শনাক্ত হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালানোর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এআইভিত্তিক নজরদারি চালু হলে চালকদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ২০ বছর ধরে যাত্রী পরিবহন করা চালক আসলাম হোসেন এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্যামেরায় যানবাহনের চলাচলের ছবি ও তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে আইন ভাঙার পর তা অস্বীকার করার সুযোগ কমে যাবে। জরিমানাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধ করতে হবে। তাই চালক ও গাড়ির মালিক—দুজনকেই আরও সচেতন হতে হবে।

ট্রাকচালক আবু তাহের বলেন, মহাসড়কে অনেক দুর্ঘটনার পেছনে চালকদের বেপরোয়া মনোভাব দায়ী। এআই ক্যামেরার নজরদারি চালু হলে অতিরিক্ত গতির প্রতিযোগিতা কমবে এবং চালকদের আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে।

সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব এক্সিডেন্টসের প্রতিষ্ঠাতা কাজী আবদুর রাজ্জাক (রাশেদ) বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও এটি একটি যুগোপযোগী উদ্যোগ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়লে চালকদের সচেতনতা বাড়বে এবং দুর্ঘটনার সংখ্যাও অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর আলম খান জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোট ১ হাজার ৪২৭টি ক্যামেরা কাজ করবে। এর মধ্যে কুমিল্লা অংশে থাকবে ১৯৯টি এআই ক্যামেরা।

তিনি বলেন, এআই ক্যামেরার নজরদারি চালু হলে ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে চালকদের মধ্যে শৃঙ্খলা বাড়বে। পাশাপাশি মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হাইওয়ে পুলিশ সুপার আরও বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ বা জরিমানা আদায় করাই এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নয়; মহাসড়কে নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক যান চলাচল নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর উল্টে গেল বাস, স্কুলছাত্রী নিহত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর উল্টে গেল বাস, স্কুলছাত্রী নিহত

ফেনীর দাগনভূঞায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস স্কুলফেরত শিক্ষার্থীদের ওপর উল্টে পড়ে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ছয় শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সিলোনীয়া বাজার এলাকায় একটি স’মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম সুমাইয়া (১১)। সে জায়লস্কর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের মো. খোকনের মেয়ে এবং স্থানীয় সিলোনীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিদ্যালয় ছুটির পর শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় ‘ঢাকা-শরীয়তপুর এক্সপ্রেস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর উল্টে পড়ে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী বাসের নিচে চাপা পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের নিচে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সুমাইয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্টার লাইন স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহতদের মধ্যে উত্তর আলামপুর গ্রামের মাইন উদ্দিন শিপন মিয়ার মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসা (১১) গুরুতর আহত হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করে।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ ফয়জুল আজীম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম